1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : raihan :
  3. [email protected] : sanowar :
  4. [email protected] : themesbazar :
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনকে সহায়তায় জাতিসঙ্ঘের প্রয়োজন ৩৯০ কোটি ডলার - Prothom News
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনকে সহায়তায় জাতিসঙ্ঘের প্রয়োজন ৩৯০ কোটি ডলার

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩৩ বার
Print Friendly, PDF & Email

প্রথম নিউজ ডেক্স:

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের দুর্দশাগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষকে সহায়তার জন্য জাতিসঙ্ঘের তিন শ’ ৯০ কোটি ডলার প্রয়োজন।

বুধবার জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও উপ জরুরি সহায়তা সমন্বয়ক রমেশ রাজাসিংহাম এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইয়েমেনে সাত বছরের বেশি চলমান গৃহযুদ্ধে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষকে সহায়তার বৃহত্তম বাধা হলো তহবিল সংগ্রহ।

তিনি বলেন, ‘সকল দাতাকে আমি তহবিল সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য এবং সম্ভব হলে তা বাড়ানোর জন্য আহ্বান করছি, যাতে করে এই বছর তাদের সহায়তা সম্ভব হয়।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইয়েমেনে তহবিল সরবরাহ কমে আসছে বলে জানান তিনি। গত বছর মোট প্রয়োজনের ৫৮ ভাগ তহবিল সরবরাহ হয়েছে বলে রমেশ রাজাসিংহাম জানান।

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ না হওয়ায় সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে খাদ্য, সুপেয় পানি, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

অর্থ সরবরাহ ছাড়াও ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে দেশটিতে সহায়তা পৌঁছানোর পথের স্বল্পতা ও নিরাপত্তাও অন্যতম বাধা বলেন জানান তিনি।

এদিকে যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের জন্য ইয়েমেনে উভয়পক্ষই সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে জাতিসঙ্ঘ সতর্কতা জানিয়েছে।

বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে ইয়েমেনে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের দূত হ্যানস গ্রাউন্ডবার্গ বলেন, সংঘর্ষে যুক্ত পক্ষগুলো তাদের সামরিক তৎপরতা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে চলছে।

তিনি বলেন, ‘সাত বছরের চলমান যুদ্ধের পর লড়াইরত সব পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস দাঁড়িয়েছে, প্রতিপক্ষকে প্রভাব বিস্তারকারী ক্ষতির মুখোমুখি করলেই তারা আত্মসমর্পণ করবে। যদিও, যুদ্ধের ময়দান থেকে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান আসবে না।’

২০১১ সালে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের বিক্ষোভের জেরে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ সরকারের পতন ঘটে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি দায়িত্ব নেন। নতুন সরকার গঠন হলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে।

বিবাদমান পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৪ সালের শেষে ইরান সমর্থিত উত্তর ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বের জোট হাউছিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে আগ্রাসন করলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে আরব উপদ্বীপের দরিদ্রতম দেশটি।

সাত বছরের বেশি সময় চলমান এই গৃহযুদ্ধে হাউছি নিয়ন্ত্রিত সানাকেন্দ্রীক উত্তর ইয়েমেন ও বন্দর নগরী এডেনকেন্দ্রীক দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারের অধীন দক্ষিণ ইয়েমেনে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

২০২০ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সৌদি মধ্যস্থতায় দক্ষিণের সব শক্তিকে একত্রিত করে নতুন এক ঐক্য সরকার গঠন করা হয়। সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি ও আমিরাতের সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী এসটিসিকে একত্রিত করে এই সরকার গঠিত হয়।

ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধ-সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই বেসামরিক লোকজন। এছাড়া যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখো মানুষ।

সাত বছরের টানা যুদ্ধ ও অবরোধে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ইয়েমেন। ইতোমধ্যে ক্ষুধায় ৫০ হাজারের বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে। ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতিকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম মানবসৃষ্ট মানবিক সংকট হিসেবে হিসেবে বর্ণনা করেছে জাতিসঙ্ঘ।

সূত্র : আলজাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর...

ফেসবুকে আমরা…

© All rights reserved © 2020, prothomnews.com.bd