1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : raihan :
  3. [email protected] : sanowar :
  4. [email protected] : themesbazar :
নানা অঘটনে রাজধানীতে বাড়ছে অস্থিরতা - Prothom News
শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫০ অপরাহ্ন

নানা অঘটনে রাজধানীতে বাড়ছে অস্থিরতা

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৭ বার
Print Friendly, PDF & Email

প্রথম নিউজ ডেস্ক:

নানা অঘটনে রাজধানীতে বাড়ছে অস্থিরতা। বেপরোয়া গাড়ি চলাচলে ঘটছে হতাহতের ঘটনা। পরিবহন ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। হাফ ভাড়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। বেতন-ভাতা না পেয়ে পোশাক শ্রমিকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে প্রায় দিনই। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। এসব বিষয় রাজধানীর বাসিন্দাদের করে তুলছে আতঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্ত। একই সাথে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি।

করোনার প্রকোপ কমে আসায় শহরের মানুষ এখন কর্মমুখী। পেটের তাগিদে দিনমজুর, শ্রমিকরা কাজের সন্ধানে ছুটছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে রাজধানীতে এমন অস্থিরতায় মানুষ রাস্তায় বের হয়ে উদ্বিগ্ন থাকছেন।

গতকাল বুধবারও দু’টি ঘটনায় রাজধানীতে দেখা দেয় চরম অস্থিরতা। সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীর। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
অপর দিকে রাজধানীর মিরপুরে বেতন-ভাতার দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হন কয়েকজন শ্রমিক। আবার পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা শুরু হয় রাজধানীজুড়ে। বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। এতে সারা দিন রাজধানীজুড়ে ছিল অসহনীয় যানজট।

কলেজে যাওয়া হলো না নটর ডেম ছাত্র নাঈমের : প্রতিদিনের মতো বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কলেজে রওনা হয়েছিল নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান (১৭)। বাসা দূরে হওয়ায় অনেকটা কষ্ট করেই তাকে প্রতিদিন রাজধানীর গুলিস্তান পৌঁছতে হতো। গতকাল নাঈম গুলিস্তান পৌঁছেছিল ঠিকই কিন্তু তার কলেজে যাওয়া হয়নি। রাস্তা পার হতেই বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা সিটি করপোরেশনের একটি ময়লাবাহী গাড়ি চাপা দেয় নাঈমকে। রাস্তায় পড়ে থাকা সংজ্ঞাহীন নাঈমকে পথচারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে নাঈম মারা যায়।

দুপুর ১২টার দিকে গুলিস্তান হল মার্কেটের সামনের চত্বরে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নাঈম হাসান নটর ডেম কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিল। তার বাবার নাম শাহ আলম। মায়ের নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। দুই ভাইয়ের মধ্যে নাঈম ছিল ছোট। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ২৪৪ ঝাউলাহাটি চৌরাস্তায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সাথে থাকত। তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। নীলক্ষেতে তার বাবার বইয়ের দোকান রয়েছে।

এ দিকে নাঈমের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহপাঠীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা রাস্তায় বিক্ষোভ করে। প্রথমে তারা মতিঝিলের আরামবাগে নটর ডেম কলেজের সামনে রাস্তা অবরোধ করে। পরে গুলিস্তান সড়ক ও নগর ভবনের সামনে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে পুরো এলাকায় দেখা দেয় যানজট।

পল্টন থানার ওসি সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, নাঈমকে চাপা দেয়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িটি জব্দ এবং চালক রাসেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান ওসি।

নাঈমকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী পথচারী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হল মার্কেট মোড়ে বায়তুল মোকাররমগামী সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি মোড় ঘুরতেই নাঈমকে প্রথমে ধাক্কা দেয়, পরে চাপা দেয়। রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। সেখান থেকে মেডিক্যালে নিলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন নাঈমের বাবা। ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তিনি বারবার বলতে থাকেন, আমি কেন কলেজে যেতে ছেলেকে বিদায় দিলাম। আমার থেকে বিদায় নিয়ে এলো কলেজে যাবে বলে। এসে চিরবিদায় নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেল।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ : নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কয়েক শ’ শিক্ষার্থী নগরভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ভবনের সামনেই স্লোগান দেয় তারা। সিটি করপোরেশনের কারো সাথে কথা বলতে না পেরে কিছুক্ষণ পর দুর্ঘটনাস্থলে চলে আসে শিক্ষার্থীরা। তাদের হাতে ছিল প্লাকার্ড। অনেকের বুকে পিঠে লেখা ছিল ‘আমি বাঁচতে চাই’। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা এসে নাঈমকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির চালককে গ্রেফতার ও বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা বিকেল ৪টার দিকে রাস্তা ছেড়ে দেয়।

ডিএসসিসির তদন্ত কমিটি : নাঈমের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের সাংবাদিকদের জানান, ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ : এ দিকে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভরত শ্রমিকরা মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে অবস্থান নেন। পরে মিরপুর-১৩ নম্বর বিএমএ গার্মেন্টের সামনের সড়কও অবরোধ করা হয়। তবে শ্রমিকদের ওপর হামলায় এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড্ডাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করেন। ফলে যানজট আরো তীব্র হয়।
গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিকরা রাস্তায় বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাস্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মিরপুরে আন্দোলনরত বিএমএ গার্মেন্টের শ্রমিক সাদিয়া বলেন, বাড়ি ভাড়া, খাবার খরচসহ সব পণ্যের দাম বাড়তি। অথচ আমাদের বেতন ও সুবিধা বাড়ানো হয়নি। তাই বেতন বাড়ানোর দাবিতে তিন দিন আগে থেকে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। এর মধ্যে বিএমএ গার্মেন্টের মালিক সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা করে। তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমাদের দাবি, বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর হামলার দায়ে মালিককে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া আবদুর রহমান নামে এক শ্রমিক জানান, হামলা চালিয়ে যাদেরকে আহত করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূূরণ দিতে হবে, হামলাকারীদের সঠিক বিচার করতে হবে। একইসাথে আমাদের বেতন, হাজিরা বোনাস বৃদ্ধি, সবাইকে ঈদ বোনাসের আওতাভুক্ত এবং বার্ষিক ছুটির অর্থ প্রদান করতে হবে।

গত মঙ্গলবার আন্দোলন চলাকালে মালিকপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় দুইজন শ্রমিক নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। আহত তিন শ্রমিককে মিরপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানান সহকর্মীরা। পুলিশ জানায়, শ্রমিকরা গোল চত্বরে অবস্থান নেয়ায় অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সড়কে শ্রমিক অবস্থানের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এ দিকে পোশাক শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবারও রাস্তায় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন।

বাসে হাফ ভাড়া নিয়ে আন্দোলন : তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই ভাড়া নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও বাসের চালক-শ্রমিকদের মধ্যে ঝগড়াসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগে বাস ভাড়াকে কেন্দ্র করে রামপুরায় শিক্ষার্থীকে বাস থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয় বাস শ্রমিক। এতে ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর থেকে রাজধানীর শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন ধরে রাস্তায় বিক্ষোভ করছে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নামধারী কিছু যুবক। এ অবস্থায় সারা দেশের গণপরিবহনে হাফ পাস চালুর জন্য সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে আজ থেকে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজসহ বিভিন্ন কলেজশিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। এ দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে চলে যাওয়ার সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাও পাল্টা ধাওয়া দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন...

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর...

ফেসবুকে আমরা…

© All rights reserved © 2020, prothomnews.com.bd