1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : raihan :
  3. [email protected] : sanowar :
  4. [email protected] : themesbazar :
অপরাধীকে ধরিয়ে দেয়ায় খুন করা হয় সোহানকে - Prothom News
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

অপরাধীকে ধরিয়ে দেয়ায় খুন করা হয় সোহানকে

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১
  • ৫৬ বার
Print Friendly, PDF & Email

প্রথম নিউজ ডেস্ক:

গাজীপুরে মারধর ও পুলিশে ধরিয়ে দেয়ায় এক কিশোরকে খুন করে ময়লার ভাগাড়ে চাপা দেয় তার বন্ধুরা। ঘটনার সাথে জড়িত এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ক্লুলেস এ ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর পিবিআই’র পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতারকৃতের নাম মো: সাগর (২০)। নেত্রকোনার পূর্বধলা থানার শালদিয়া গ্রামের জামাল ওরফে কসাই জামাইয়ের ছেলে সাগর গাজীপুরের শ্রীপুর থানার গিলারচালা নামাপাড়া এলাকার আব্বাসের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

পিবিআই এর সুপার জানান, গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন গিলারচালা গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার আব্বাস আলীর ছেলে সোহান (১৪) গত বছরের ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে থানায় জিডি করেন তার মা মোসা: নাজমা।

নিখোঁজের ২৯দিন পর ৩১ আগস্ট স্থানীয় গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি খালের ব্রিজ সংলগ্ন ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তুপে (ভাগাড়ে) এক কিশোরের কঙ্কাল দেখতে পায় স্থানীয়রা। কঙ্কালের পাশে পড়ে থাকা ফুলপ্যান্ট ও একটি ফুলহাতা পাঞ্চাবি এবং স্যান্ডেল দেখতে পেয়ে কঙ্কালটি সোহানের বলে দাবি করেন তার স্বজনরা।

কাপড় ও স্যান্ডেলগুলোর আংশিক আগুনে পোড়া ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কালসহ কাপড় ও স্যান্ডেল উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে অজ্ঞাতদের আসামি করে নিহতের মা থানায় মামলা করেন। শ্রীপুর থানা পুলিশ প্রায় দুই মাস তদন্ত করে এ ঘটনায় জড়িত
সন্দেহে মো: আজিজুল, মো: সাগর, হৃদয় ও সবুজ নামের চার যুবককে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-এর নির্দেশে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এর ঘটনার মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় গাজীপুরের পিবিআইকে। পিবিআই’র তদন্তকালে উদ্ধারকৃত কঙ্কালের ডিএনএ পরীক্ষা করে তা সোহানের বলে নিশ্চিত হন তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো: সুমন মিয়া।

পরে থানায় গ্রেফতারকৃত হাজতী আসামি মো: সাগরকে (২০) রিমান্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে সে সোহান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু (সুইচ গিয়ার) রোববার উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাগর সোমবার আদালতে নিজেকে জড়িয়ে অপর আসামিদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়। এর প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর চাঞ্চল্যকর কিশোর সোহান হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়।

তিনি আরো জানান, সোহন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা একে অপরের বন্ধু। তারা একসাথে চলাফেরা করত। খুন হওয়ার কয়েক দিন আগে সোহানকে মারপিট করে সাগর। ছেলের কাছে এ ঘটনা জানতে পেরে সাগরকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আইল্যান্ডের গাছের সাথে বেঁধে জুতা ও লাঠি দিয়ে মারপিট করে সোহানের বাবা। এতে ক্ষুব্ধ হয় সাগর। এছাড়াও সোহানের বাবার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ২০০ পিস ইয়াবাসহ আজিজুলকে আটক করে। এ মামলায় আজিজুল তিনমাস হাজত খেটে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়। উভয় ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ সাগর ও তার বন্ধুরা সোহানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুসারে ঘটনার দিন ভিকটিম সোহানকে পাশের জঙ্গলে ডেকে নিয়ে যায় তারা। সেখানে নিয়ে সোহানের মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে সাগর এবং বুকে ছুরিকাঘাতে খুন করে আজিজুল। পরে নিহতের লাশ ওই ময়লার স্তুপে চাপা দিয়ে তারা পালিয়ে যায় বলে গ্রেফতারকৃত মো: সাগর তার স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর...

ফেসবুকে আমরা…

© All rights reserved © 2020, prothomnews.com.bd